Logo
প্রিন্টের তারিখ: 04 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 5, 2026

সংবাদ শিরোনাম : কক্সবাজারে গাড়ি জব্দ: বিলাসবহুল নাকি পারফরম্যান্স কার, অনুসন্ধানের আগেই অপরাধী সাব্যস্তকরণ কেন?

কক্সবাজারে গাড়ি জব্দ: বিলাসবহুল নাকি পারফরম্যান্স কার, অনুসন্ধানের আগেই অপরাধী সাব্যস্তকরণ কেন?


​এ.আর. ইমরান

​সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের পার্কিং এলাকা থেকে তিনটি গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কাস্টমসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ার অজুহাতে এগুলোকে "বিলাসবহুল ও চোরাচালানকৃত" গাড়ি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অটোমোবাইল কারিগরি দিক এবং মালিকপক্ষের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঘটনার পেছনের বাস্তবতা শুধুই শুল্ক বা সংবাদের বিষয় নয়—এখানে রয়েছে পরিভাষাগত ভুল এবং প্রক্রিয়াগত জট।
​বিলাসবহুল নাকি স্পোর্টস/পারফরম্যান্স কার?
সংবাদমাধ্যম ও কাস্টমসের বিজ্ঞপ্তিতে ঢালাওভাবে গাড়ি তিনটিকে "বিলাসবহুল" আখ্যা দেওয়া হলেও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে এই আধুনিক গাড়িগুলোকে "বিলাসবহুল" বলা কৌশলগতভাবে ভুল। এগুলো মূলত স্পোর্টস বা পারফরম্যান্স কার।
​একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বিলাসবহুল গাড়ি (Luxury Car) এবং পারফরম্যান্স কারের (Performance Car) মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পারফরম্যান্স কারগুলোতে গতি, ইঞ্জিনের টিউনিং, অ্যারোডাইনামিক বডি কিট এবং ড্রাইভ এনগেজমেন্টকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। দৃশ্যমান দিক থেকে এগুলো ভিন্ন ধাঁচের ও আকর্ষণীয় হওয়ায় সাধারণ চোখের দর্শনে প্রায়ই এগুলোকে কোটি টাকার লাক্সারি গাড়ি বলে ভুল করা হয়। মূলত স্পোর্টস কার সংস্কৃতির নাড়ি-নক্ষত্র না বুঝে শুধুমাত্র বাহ্যিক আকৃতির ওপর ভিত্তি করে এগুলোকে "বিলাসবহুল ও অবৈধ" বলে দাগিয়ে দেওয়া দেশের গাড়িপ্রেমী ও কার কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
​কাস্টমসের আইন প্রয়োগ ও মালিকপক্ষের অসন্তোষ
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বা কাস্টমস ছাড়পত্রের মূল নথি না পাওয়ায় তারা গাড়িগুলো জব্দ করেছে। চোরাচালান বা রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমসের এই নজরদারি তাদের আইনি এখতিয়ারের অংশ।
​তবে এখানে মালিকপক্ষের মৌলিক ও যৌক্তিক প্রশ্ন হলো—দূরপাল্লার ভ্রমণে কোনো চালক বা মালিক গাড়ির মূল আমদানির কাস্টমস নথি সাথে নিয়ে ঘোরেন না। সাধারণত ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও লাইসেন্সের কপি সাথে থাকে। শোরুমের মাধ্যমে এনবিআরের শুল্ক পরিশোধ করে কেনা গাড়িগুলোর মূল কাগজপত্র জমা দেওয়ার বা প্রমাণের উপযুক্ত সময় না দিয়ে, অনুসন্ধানের শুরুতেই মিডিয়ার মাধ্যমে "অবৈধ ও চোরাচালানকৃত" বলে প্রচার করা একটি চরম মিডিয়া ট্রায়াল।
​শোরুম ও ক্রেতার দায়ের পার্থক্য
গাড়িগুলো রাজধানীর মিরপুর ইসিবি চত্বরের 'এলিগেন্ট অটোস' থেকে বৈধ রসিদ ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়েছে, যার প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ শোরুমের রেকর্ডে বিদ্যমান। আইনানুযায়ী, কোনো শোরুম থেকে বৈধ রসিদে গাড়ি কেনার পর যদি তাতে কোনো শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা বের হয়, তবে তার প্রাথমিক দায় আমদানিকারক বা শোরুমের—খুচরা ক্রেতার নয়। না জেনে গাড়ি কেনা ক্রেতাকে শুরুতেই অপরাধী সাব্যস্ত করা আইনগত ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই অনুচিত।
​উপসংহার
পারফরম্যান্স কার মানেই চোরাচালান বা অবৈধ গাড়ি নয়। গাড়িগুলোর চ্যাসিস নম্বর ধরে বিআরটিএ (BRTA) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ডেটাবেজে সঠিক তথ্য যাচাই করা কাস্টমসের সামান্য কিছু সময়ের ব্যাপার। চূড়ান্ত তদন্ত ও অফিশিয়াল রিপোর্ট আসার আগেই সংবাদমাধ্যমে "অবৈধ গাড়ি জব্দ" শিরোনাম দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ হওয়া উচিত। কাস্টমস ও সংবাদমাধ্যম উভয় পক্ষেরই উচিত পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কার কারিগরি বিষয় ও প্রকৃত সত্য যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়ার সুরাহা করা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক এই সময়ের
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ দৈনিক এই সময়ের
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF