নিজস্ব প্রতিনিধি
সারা দেশে শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রীড়াচর্চার সুযোগ বাড়াতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১ হাজার খেলার মাঠ উপযোগী করে গড়ে তোলার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরি ও ক্রীড়া ব্যবস্থা সম্প্রসারণসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রাজধানীর বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই-তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি মাঠ বরাদ্দের তাগিদ দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন শুরু করা হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য মাঠের বিকল্প নেই। তাই তৈরি করা মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উঠে আসে, দেশের মোট ৪,৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা শেষ। প্রতিটি মাঠের আকার সর্বনিম্ন ৩ বিঘা থেকে সর্বোচ্চ ৮ বিঘা হতে পারে। মাঠগুলোর দেখভাল ও উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা তদারকির জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ মোট ১০টি ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত করার বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই ক্রীড়া কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, বর্তমানে নিষ্ক্রিয় থাকা উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা হবে, অবৈধভাবে দখলে থাকা মাঠগুলো উদ্ধার করা হবে এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলা ও স্পোর্টস ক্লাব চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগামী পাঁচ বছরে ক্রীড়াবান্ধব ও স্বাস্থ্যবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাঠ সংরক্ষণ এবং বছরজুড়ে খেলাধুলার ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে একসাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।