Logo
প্রিন্টের তারিখ: 20 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 20, 2026

সংবাদ শিরোনাম : বিগত সরকারের সময় ব্যাংকিং খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: রিজভী

বিগত সরকারের সময় ব্যাংকিং খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিনিধি 

দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের সময় ব্যাংকিং খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্য থেকেই ব্যাংক ও আর্থিক খাত পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে এ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটোরিয়ামে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ‘বস্ত্র খাতে বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আইটিইটির নবনির্বাচিত কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যদানকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সংকট কাটাতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এ খাতের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎসংকট বস্ত্র খাতের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং দেশের বৃহৎ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত এ খাতকে টিকিয়ে রাখার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী সতর্ক করে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়টিও বস্ত্র খাতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আগের মতো আগ্রহী না-ও থাকতে পারেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে না ফেলেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকারখানাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আশাবাদ প্রকাশ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বন্ধ কলকারখানাগুলো নতুন করে চালু করা এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। এতে প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ দেশের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দর্শনের মূল ভিত্তি দেশপ্রেম। দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্যক্তিগত চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে সমষ্টিগতভাবে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণে কাজ করতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও উৎপাদনশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আইটিইটির নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান রুহুল কবির রিজভী। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা ভালো করবেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক এই সময়ের
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ দৈনিক এই সময়ের
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF