দৈনন্দিন চায়ের কাপে কিংবা ডায়েট চার্ট থেকে 'সাদা বিষ' হিসেবে পরিচিত চিনি বাদ দিয়ে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন গুড় বা মধুর দিকে। অনেকের ধারণা, চিনির পরিবর্তে গুড় খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং ডায়াবেটিসজনিত ঝুঁকি কমে। কিন্তু সত্যিই কি মিষ্টির বিকল্প হিসেবে গুড় শতভাগ নিরাপদ? পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, বিষয়টি মোটেই ততটা সরল নয়।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক টেবিল চামচ চিনি এবং সমপরিমাণ গুড়—উভয় থেকেই শরীর প্রায় ৬০ ক্যালরির মতো শক্তি পায়। তাছাড়া গুড়ের 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' (Glycemic Index) বেশ উঁচুতে। ফলে চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা যেভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, গুড় গ্রহণের ফলেও প্রায় একই প্রতিক্রিয়া ঘটে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য চিনি আর গুড়ের পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়; দুটিই রক্তে শর্করা বাড়ানোর সমান ঝুঁকি বহন করে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, সাধারণ চিনির চেয়ে গুড়কে কেন তুলনামূলক উন্নত মনে করা হয়?
বাজার থেকে কেনা সব গুড় কিন্তু স্বাস্থ্যকর নয়। বর্তমানে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে অনেক গুড়ে রাসায়নিক পদার্থ, কৃত্রিম রং এমনকি সাদা চিনি মেশানো হয়। এ ধরনের ভেজাল গুড় উপকারের চেয়ে শরীরের ক্ষতিই বেশি করে। তাই খাঁটি ও কেমিক্যালমুক্ত গুড় বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যদি আপনার ডায়াবেটিস কিংবা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা না থাকে, তবে সীমিত মাত্রায় প্রাকৃতিক ও খাঁটি গুড় খেতে পারেন। তবে মনে রাখা দরকার, যেকোনো অতিরিক্ত মিষ্টিই ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক খাদ্যতালিকায় চিনি বা গুড় থেকে আসা ক্যালরির পরিমাণ যেন মোট ক্যালরির ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি না হয়।
চিনি বা গুড়ের ব্যবহার পুরোপুরি পরিহার করেও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর চা পান করা সম্ভব:
এতে চায়ের স্বাদে কোনো ঘাটতি আসবে না, বরং মসলার স্বাস্থ্যগুণও পাওয়া যাবে। সুস্বাস্থ্যের মূলমন্ত্র হিসেবে বলা যায়—বিকল্প থাকলে চিনি ও গুড়, উভয়ই এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড