উত্তর সুদানের বিতর্কিত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার একটি সোনার খনিতে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। এই প্রাণঘাতী বিমান হামলার জন্য সুদানভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী 'ইমার্জেন্সি লইয়ার্স' সরাসরি মিসরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করেছে। তবে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং নিরপেক্ষ কোনো উৎস থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি এবং আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) ওয়াদি সীমান্ত অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। এর পরের দিন, রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি এ হতাহতের তথ্য তুলে ধরে।
সংগঠনটি অভিযোগ করে জানায়, সুদানি সীমানার ভেতরে অবস্থিত ওয়াদি খনিতে কর্মরত সাধারণ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে মিশরীয় যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের মতে, প্রত্যন্ত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলার পরপরই চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অনলাইনে এবং স্থানীয় সূত্রগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা ও কাফনে মোড়ানো লাশের একাধিক ছবি প্রচারিত হতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, জাবাল আল-উকাইদাত সংলগ্ন সোনার খনি এলাকায় এটি এই বছরের দ্বিতীয় বিমান হামলার ঘটনা। এর আগে গত জুন মাসেও একই অঞ্চলে হামলায় ২৩ জন খনিশ্রমিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সেই সময় মিসরীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নিজেদের আন্তর্জাতিক সীমানায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে তারা বড় আকারের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। সেই অভিযানে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২২৩ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়।
তবে 'ইমার্জেন্সি লইয়ার্স'-এর স্পষ্ট দাবি, সাম্প্রতিক এই আক্রমণের স্থানটি ছিল পুরোপুরি সুদানের ভূখণ্ডের ভেতরের অংশ। তাদের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলে বারবার হামলা চালানোর ঘটনা মূলত সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রাসী প্রয়াস।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড